বড় চাকরি, দামী গাড়ি, অঢেল বিত্ত! এসবকে সমাজ নির্ধারিত মানদণ্ডে সফলতার প্রতীক বলা যায়। আয়েশী জীবনযাপনের রসদ হিসেবে এগুলো কার্যকর হলেও সুখ এক ভিন্ন জগৎ; এটি উপভোগের নয়, বরং উপলব্ধির বিষয়। সুখের অবস্থান হৃদয়ের মোলায়েম বিছানায়; আভিজাত্যের ঝলকে নয়। সুখ পরিমাপের মানদণ্ডে, পাঁচ টাকার বাদাম বিক্রেতা হয়তো সমাজের বিত্তবান অনেকের চেয়েও এগিয়ে। জীবনের গভীরতম আনন্দটা আসে তৃপ্তি থেকে। যা দামী ব্র্যান্ডের গন্ধে নয়, বরং সম্পর্কের আন্তরিকতায় লুকিয়ে থাকে। অভিজ্ঞতা বলে, সাফল্যের মধ্যে সুখ থাকতেও পারে, আবার নাও পারে। কিন্তু সুখ যেখানে আছে, সেখানে এক ধরনের সাফল্য অনিবার্যভাবেই বিরাজ করে। সমাজে এমন বহু ধনী মানুষ আছেন, যাদের পারিবারিক জীবনে সুখ নেই। জীবনটা কেবল আনুষ্ঠানিকতার খাতিরে চলে—স্ত্রী-সন্তান ও সংসার যেন একেকটি দায়িত্বের বোঝা। বিষাদ সেখানে প্রতিদিনের সঙ্গী। সম্পর্কের শিকড়গুলো ক্রমে মরে যেতে যেতে একসময় মনটিই হারিয়ে যায়। পড়ে থাকে কেবল দেহ! যার না আছে গ্রহণের ক্ষমতা, না আছে দানের। সুখ আমাদের নাগালের মধ্যেই ছিল। কিন্তু মানুষ জোর করেই তাকে উপেক্ষা করেছে। একটু বোঝাপড়া কিংবা সামান্য ত্যাগের অনীহা থেকেই অসুখ জন্ম নেয়। মনের দূরত্ব বাড়তে বাড়তে একসময় আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। যদি আমরা মানুষকে বোঝার চেষ্টা করতাম, যদি সত্যিকারভাবে মন পড়তে শিখতাম, তবে সুখের বাজার হতো রমরমা। তখন কেউ কাউকে ঠকাতে পারতো না, হারানোর ভয় জন্মাত না। জীবন জীবনের সাথে লেপ্টে থাকত, এবং সম্পর্কের প্রলেপে মনের পূর্ণতা মিলত। আমরা প্রতিদিন সাফল্য খুঁজি, অথচ খুঁজে দেখা উচিত ছিল সুখ। কারণ মানসিক তৃপ্তির চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু নেই। একজন সুখী মানুষের জীবনে না-পাওয়ার কষ্টও সুখের রাজ্যে আঘাত করতে পারে না। বরং সুখ নিজেই সাফল্যকে আমন্ত্রণ জানায়! এসো, তুমি আমার ঘরে; আমি তোমার যোগ্য, আর তুমিও আমার প্রাপ্য। জীবনে অনেক পালকের প্রয়োজন নেই। বরং একটি পালক থাকলেই যথেষ্ট। তার নাম হতে পারে তৃপ্তি। অল্পতেই সন্তুষ্ট থাকা এবং আপনজনের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার মধ্যেই লুকিয়ে আছে সেই সুখের ঠিকানা। আশেপাশের মানুষের মন বুঝুন, তাদের চাওয়া খুঁজুনসুখ আপনার দুয়ারে ধরা দেবে। সমস্ত অসুখ দূর হয়ে জীবন হয়ে উঠবে পরিতৃপ্তির এক উদযাপন। আপনি প্রাণ খুলে হাসবেন, জীবনকে সাজাবেন আপন রঙে, আনন্দে।
Life Story
Public . 29-May-2025সুখের কাছে সাফল্যের আত্মসমর্পণ কেন?